মৃত্যু মানুষ নিয়ে বিদ্বেষ নয়, সত্যের পক্ষে থাকি
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ আর আমাদের মাঝে নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন প্রশংসিত হয়েছেন, তেমনি সমালোচিতও হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর মাগফিরাত কামনা করছি।
গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের নানা প্রতিক্রিয়া দেখছি। অনেকেই তাঁকে স্মরণ করছেন, আবার অনেকেই অতীতের নানা বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। স্বাভাবিকভাবেই আমারও অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে।
তোফায়েল আহমেদ বহুবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে বলেছেন তিনি অসুস্থতার ভান করছেন। তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়েও তাঁর ভাষা কখনোই বিএনপির সমর্থকদের জন্য সুখকর ছিল না। সংসদে বেগম খালেদা জিয়াকে "গোলাপী ভাবী" বলে সম্বোধন করার ঘটনাও আমার মতো লাখো মানুষের হৃদয়ে কষ্টের জন্ম দিয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সম্মান না দিয়ে উপহাস করার সেই দৃশ্য অনেকেই ভুলতে পারেননি।
তবুও আজ তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। মৃত্যুর পর একজন মানুষকে নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো, কটূক্তি করা কিংবা ঘৃণার রাজনীতি করা আমার পছন্দ নয়। কারণ মৃত্যুর মধ্য দিয়েই মানুষের সকল ক্ষমতা, সকল প্রভাব এবং সকল রাজনৈতিক পরিচয়ের সমাপ্তি ঘটে। তখন তিনি শুধুই একজন মৃত মানুষ, যিনি মহান রবের কাছে হিসাব দিতে গেছেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, তাঁর জানাজাকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সত্যিই হতাশাজনক। বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির পক্ষ থেকে জানাজায় কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। বরং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, হারুন অর রশীদ ট্রুম্যান, ইয়ারুল আলম লিটনসহ নেতৃবৃন্দ মাঠে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। কিছু আবেগপ্রবণ কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে স্লোগান দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।
যারা আজ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে লেখালেখি করছেন, তাঁদের কাছে অনুরোধ—একবার সত্য ঘটনাগুলোও বিবেচনা করুন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু সত্যকে আড়াল করে বিভাজন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আমার নিজেরও কিছু বেদনার স্মৃতি রয়েছে। শহীদ নুরে আলম,শহীদ আবদুর রহিম নিহত হওয়ার দিন আমিও গুরুতর আহত হয়েছিলাম। মাথায় একাধিক সেলাই লেগেছিল। সেই সময় সরকারি স্কুল মাঠে শহীদ নুরে আলম এর জানাজ পড়াতে দেয়নি পুলিশ বাহিনী দিয়ে আওয়ামিলীগ, এই আওয়ামিলীগ ভোলায় লাশ আনতে বাঁধা, দাপন করা কবরের উপরে জুতা পিটা উল্লাসো করেছে, সেই সময়ের অনেক ঘটনা এখনও মানুষের মনে প্রশ্ন জাগায়। এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিহাস একদিন দেবে।
আজ কোনো অভিযোগ নয়, কোনো প্রতিশোধ নয়। একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মৃত্যুতে মানবিকতাই বড় হয়ে উঠুক। কারণ মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার কর্ম ও ইতিহাস থেকে যায়।
তোফায়েল আহমেদ আর নেই। তিনি তাঁর কর্মের হিসাব নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়েছেন। আমরা যারা বেঁচে আছি, আমাদেরও একদিন সেই পথেই যেতে হবে।
তাই আসুন, বিদ্বেষ নয়—সত্যের পক্ষে থাকি। অপপ্রচার নয়—বাস্তবতাকে তুলে ধরি। আর একজন মৃত মানুষের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত কামনা করি।
আল্লাহ তোফায়েল আহমেদকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরিয়ে দিন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
আমিন
প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ আব্দুল কাদের লিটন বার্তা সম্পাদক : হারুন অর রশিদ শিমুল যোগাযোগ : ০১৭১৫৯১৬৪৮৯ ই-মেল : dipkotha.news@gmail.com ওয়েবসাইট : www.dipkotha.com বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মহাজনপট্টি, ভোলা সদর, শীষমহল ভবন (৩য় তলা) © ২০২৫ দৈনিক দ্বীপ কথা | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |
© ২০২৫ দৈনিক দ্বীপ কথা | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |