যুব ও সামাজিক সংগঠন ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের আয়োজনে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট, চরফ্যাশন উপজেলা শাখার সদস্যরা বাইতুল গফুর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্লাস্টিক এবং পলিথিন বর্জ্য সহ অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করে এবং এসময় সাধারণ মানুষদের সচেতন করা হয়।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবছর মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহারের পরিমাণও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮,৯৯,২৫০ মে.টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যা পরবর্তী সময়ে মাইক্রো প্লাস্টিক হয়ে ফুড চেইনে যুক্ত হয়ে মানব শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি হয়। এজন্য ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে চরফ্যাশন উপজেলায় প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট চরফ্যাশন উপজেলা শাখার আহবায়ক হাফেজ কাউছার আহমাদ, ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট চরফ্যাশন উপজেলা শাখার সদস্য মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক সহ ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের সদস্যরা এবং বাইতুল গফুর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন (সিয়াম) জানান, ‘প্লাস্টিক, পলিথিন ও বর্জ্যমুক্ত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্লাস্টিকের অতিমাত্রায় ব্যবহার পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখছে।’
তিনি আরও বলেন, নদীতেও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। নদী ও জলাশয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার ফলে জলজ প্রাণী ও মাছের ক্ষতি হয় এবং পানি দূষিত হয়। এছাড়া, প্লাস্টিক বর্জ্য পচে ভূমি ও পানি দূষণ ঘটায় এবং রোগ ছড়াতে পারে। তাই, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে নদীকে দূষণমুক্ত রাখা জরুরি।
ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট চরফ্যাশন উপজেলা শাখার আহবায়ক হাফেজ কাউছার আহমাদ বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ আজ আমাদের প্রকৃতি ও জীবনের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পরিহার করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্প গ্রহণই টেকসই ভবিষ্যতের পথ। আসুন, সচেতন হই, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন পৃথিবী গড়ি। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য প্লাস্টিক খুবই ক্ষতিকর। তাই মানুষকে সচেতন করা এবং বিকল্প ব্যবহারে উৎসাহিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’
এসময় জনগণকে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা এবং টেকসই অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত করা হয়।


















