অস্বাভাবিক জোয়ারে মনপুরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত টিনের চালায় আশ্রয় নিয়েছেন ৬০ কলোনির বাসিন্দারা,

অস্বাভাবিক জোয়ারে মনপুরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
টিনের চালায় আশ্রয় নিয়েছেন ৬০ কলোনির বাসিন্দারা,

নিজস্ব প্রতিবেদক

অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও কয়েকটি আবাসন এলাকা। পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার ৬০ কলোনিসহ বিভিন্ন বসতি। এতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক পরিবার ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় উপায়ন্তর না পেয়ে টিনের চালা ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
১৭ জুলাই (শুক্রবার) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে মেঘনা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করে। এতে বসতঘর, রান্নাঘর ও আঙিনা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার তাদের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নাবান্নায় বিঘ্ন এবং শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা পানি বন্দি মোঃ লতিফ হোসেন জানান
কয়েকদিন ধরে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে  পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। এতে আমাদের বসতঘর, রান্নাঘর ও আঙিনা পানিতে তলিয়ে গেছে। নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় গৃহস্থালির আসবাবপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট ও রান্নাবান্না করতে না পারায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
পানিবন্দি জোবেদা খাতুন  জানান, জোয়ারের পানি দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হওয়ায় শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে ঘরের টিনের চালায় কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বেলাল আহমেদ বলেন, “যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে, সেগুলো মূলত বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কাজ করে যাচ্ছেন। এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।” এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আরও সহায়তা প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকেস্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত পানি নেমে না গেলে এবং টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *