ভোলায় রাতের আঁধারে জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
ভোলা প্রতিনিধি : ভোলা শহরের পৌর বাপ্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাতের আঁধারে ঘর উত্তোলনের মাধ্যমে জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জাকির পাটোয়ারী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই এলাকার আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন মাতব্বরের মালিকানাধীন ফাঁকা জমিতে বেআইনিভাবে ঘর নির্মাণ করছেন। এতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাপ্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকার জয়নাল মাতব্বরের ২৪ শতাংশ জমি নিয়ে আশ্রয়হীনদের সঙ্গে একটি মামলা চলমান থাকলেও
ওই জমিটি ফাঁকা পড়ে ছিল। হঠাৎ শুক্রবার গভীর রাতে জাকির পাটোয়ারী ও তার কয়েকজন সহযোগী মিলে সেখানে ৩ টি ঘর নির্মান করেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্থানীয়রা ঘর উত্তোলনের বিষয়টি জয়নাল আবেদীনের পরিবারকে অবগত করেন।
জয়নাল আবেদীনের ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, কিছুদিন যাবত আমাদের ক্রয়কৃত ২৪ শতাংশ জমি জাকির পাটোয়ারীর দাবী করে জবর দখলের পায়তারা করছেন জেনে আমি শুক্রবার বিকেলে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি( জিডি) করি। এরপর মধ্যে রাতে জাকির আমাদের জমিতে ৩ টি ঘর নির্মান করে রেখে যান।
তিনি অভিযোগ করে আরও জানান, ‘ঘর গুলো অন্য কোথায়ও তৈরি করে এখানে এনে রেখে জবর দখল করা হচ্ছে। জাকির পাটোয়ারী জমি পেলে সে আইনের আশ্রয় নিতে পারতো। রাতের আঁধারে ঘর নির্মানের মাধ্যমে জমি জবর দখল করে তিনি অন্যায় করেছে। তবে জাকিরই নয় এ ঘর উঠানোর পিছনে একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করছে। আমরা এর সঠিক বিচার দাবী করছি।’
জমির মালিক আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন মাতব্বরের অভিযোগ করে বলেন, আমার ক্রয়কৃত জমিতে রাতের আঁধারে ঘর উত্তোলন করে জমি জবর দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা প্রশাসনের কাছে এর উপযুক্ত বিচার দাবী করছি।
স্থানীয়রা জানান, কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে
রাত ৯ টার দিকেও জমিটি ফাঁকা দেখেন তারা। সকালে এসে ওই জমিতে নির্মানকৃত ঘর দেখতে পান। বিষয়টি তাদের মনে কৌতূহল সৃষ্টি করলেও কারা এমন কান্ড ঘটিয়েছেন তা নজরে আসেনি কারো।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে অভিযুক্ত জাকির পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে পরে দেখা করার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ হাচনাইন পারভেজ জানান, জয়নাল আবেদীন মাতব্বরের ছেলে মিজানুর রহমান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রাতের আঁধারে এভাবে জমি দখলের ঘটনা রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও তৎপরতা জরুরি।


















