ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে বর্ণিল মেহেদী উৎসব: আনন্দে মাতলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা।।
ঈদুল ফিতরের আনন্দকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে ভোলায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এক ব্যতিক্রমধর্মী ও হৃদয়স্পর্শী মেহেদী উৎসবের আয়োজন করেছে জনপ্রিয় যুব ও সামাজিক সংগঠন “ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট”।
ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে অংশ নিয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে নির্মল আনন্দের হাসি, যা পুরো অনুষ্ঠানে এনে দেয় এক অনন্য আবেগঘন আবহ।
ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে ভোলার নদীপাড় ও প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মেহেদী উৎসবটি যেন ছিল আনন্দ, রঙ আর ভালোবাসার এক মিলনমেলা।
ছোট ছোট হাতজোড়া জুড়ে নান্দনিক ডিজাইনে মেহেদী এঁকে দেন ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের সদস্যরা। কেউ ফুলের নকশা, কেউবা ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনে সাজিয়ে তোলে তাদের হাত, যা তাদের জন্য হয়ে ওঠে ঈদের বিশেষ আনন্দের অংশ।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। শিশুদের হাসি, খেলা আর উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। তাদের কাছে এই দিনটি হয়ে থাকবে স্মরণীয় এক আনন্দঘন মুহূর্ত।
ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোঃ শাফায়াত হোসেন (সিয়াম) বলেন, ‘ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সমাজের যে শিশুরা নানা কারণে উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকে, তাদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে পারলেই আমাদের এই উদ্যোগ সার্থক।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতেও ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা জোরদার করা হবে।’
স্থানীয়রা ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ‘শুধু দান নয়, এমন মানবিক ও সৃজনশীল আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সমাজে সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
শিশুদের হাতে রঙিন মেহেদীর ডিজাইন এঁকে দেন ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের টিম মেম্বার তাযকিয়া ইনসান, জান্নাতুল ফেরদৌস মিথিলা, মুক্তা আক্তার, বিবি ফাতেমা, সাফা ইসলাম, আরজু বেগম।
ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের সদস্যরা শিশুদের হাতে মেহেদী আঁকার সময় শিশুদের চোখেমুখে যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তা ছিল সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। কেউ নিজের হাত দেখিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছে, কেউ আবার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাতে ব্যস্ত, এই দৃশ্যগুলো যেন এক মানবিক গল্পের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের সদস্যদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, এই ধরনের আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তারা গর্বিত। ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের মেহেদী শিল্পী বলেন, ‘শিশুদের হাসি আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাদের আনন্দই আমাদের অনুপ্রেরণা।’
ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত মেহেদী উৎসবে আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ শাফায়াত হোসেন (সিয়াম), মীর আবিদ হোসেন রাফি, ইয়াসিন আরাফাত, ফয়েজুল ইসলাম, মোঃ ইসমাইল, ইফাজ হোসেন, প্রমুখ।
ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টের এই উদ্যোগ কেবল একটি উৎসব আয়োজন নয়, বরং এটি একটি মানবিক বার্তা যেখানে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ঈদকে রঙিন করে তোলার এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার এবং অন্যদের জন্যও এক অনুকরণীয় উদাহরণ।

















