বিশ্বকাপে ৩০ দেশের চেয়ে একাই বেশি গোল মেসির!

লিওনেল মেসি যেন রেকর্ড গড়ার মিশন নিয়েই খেলছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ২০২৬ আসরে গ্রুপ পর্ব শেষ হতে না হতেই একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট তো আগেই উঠেছে তার মাথায়, এবার তিনি গড়েছেন আরও একটি অবিশ্বাস্য কীর্তি।

গ্রুপ পর্ব শেষে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬। অথচ এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩০টি দলই তার সমান গোলও করতে পারেনি। অর্থাৎ, একা মেসির গোলসংখ্যা সেই ৩০ দেশের পুরো দলের চেয়ে বেশি কিংবা সমান।

এই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে যাত্রা শুরু করেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে আরেকটি গোল করেন। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচে তার গোল এখন ৬টি।

এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নতুন বিশ্বরেকর্ডও গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এর আগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড নিজের একার করে নেন।

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আট গোলের মধ্যে ছয়টিই এসেছে মেসির পা থেকে। প্রথম দুই ম্যাচে দলের পাঁচ গোলের সবকটিই করেছিলেন তিনি। শেষ ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে বিশ্রাম দিলেও ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে আবারও স্কোরশিটে নাম লেখান।

পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনাকে বাদ দিলে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭টি দল মেসির চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছে। স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, মিসর, আলজেরিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা করেছে পাঁচটি করে গোল, যা মেসির চেয়েও কম। এছাড়া চারটি দল করেছে চার গোল, চারটি দল তিন গোল, ১২টি দল করেছে দুটি করে গোল এবং চারটি দল মাত্র একটি গোল করতে পেরেছে। একমাত্র পানামা এখনো গোলের দেখা পায়নি।

গ্রুপ পর্ব শেষে সর্বোচ্চ ১০টি করে গোল করেছে জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস। কানাডার গোল ৯টি। আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও সেনেগাল করেছে আটটি করে গোল। সাতটি করে গোল রয়েছে ব্রাজিল, জাপান, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের। আর ছয়টি করে গোল করেছে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো, মরক্কো, অস্ট্রিয়া ও বেলজিয়াম।

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা মেসির সামনে এখন নকআউট পর্বের চ্যালেঞ্জ। বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *