সংবাদ শিরোনাম ::
একনেক বৈঠক স্থগিত, আটকে গেল ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন ক্যান্সারে আক্রান্ত জেলে সাদ্দামের পাশে ‘তারুণ্যের পথচলা সংগঠন’, পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা বোরহানউদ্দিনে ইয়াছিন পাড়া ডিগ্রি কলেজে ল্যাব সহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ চরফ্যাশনে এ পি পি এডভোকেট হিরনের বিরুদ্ধে জেলা জজের গন বিজ্ঞপ্তি তজুমদ্দিনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ উপজেলার মেধা তালিকায় ২য় হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল আলম ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় আজ মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক শশীভূষণ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ তিন ডাকাত সদস্য গ্রেফতার ! চরফ্যাশনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিযোগ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
একনেক বৈঠক স্থগিত, আটকে গেল ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন ক্যান্সারে আক্রান্ত জেলে সাদ্দামের পাশে ‘তারুণ্যের পথচলা সংগঠন’, পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা বোরহানউদ্দিনে ইয়াছিন পাড়া ডিগ্রি কলেজে ল্যাব সহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ চরফ্যাশনে এ পি পি এডভোকেট হিরনের বিরুদ্ধে জেলা জজের গন বিজ্ঞপ্তি তজুমদ্দিনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ উপজেলার মেধা তালিকায় ২য় হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল আলম ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় আজ মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক শশীভূষণ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ তিন ডাকাত সদস্য গ্রেফতার ! চরফ্যাশনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিযোগ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

চরফ্যাশনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিযোগ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

‎কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ৭২ নম্বর দক্ষিণ মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০০ দিন বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছয় দিন, মে মাসে চার দিন এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬১ দিন অনুপস্থিত ছিলেন আলমগীর হোসেন। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১১৫ দিন, জুন মাসে এক দিন এবং জুলাই মাসে টানা ১০ দিন তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তার অনুপস্থিতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হলেও দীর্ঘ সময়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
‎এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, আলমগীর হোসেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ ও ধার হিসেবে টাকা নিয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে লাভ দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া এবং কম দামে নলকূপ স্থাপনের কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
‎স্থানীয়দের দাবি, ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আলমগীর হোসেন দীর্ঘ সময় এলাকায় ও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। এর ফলে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
‎অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চরফ্যাশন উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট ২৫৮৭ নম্বর স্মারকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে ওই নোটিশের কোনো জবাব তিনি দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
‎এদিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সংবাদকর্মী ও কয়েকজন পাওনাদার বিদ্যালয়ে গেলে সেখানে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান।
পাওনাদাররা মধ্যে
সুখী আক্তার ৮০ হাজার,
আব্দুস সাত্তার ১ লক্ষ ৬৫ হাজার,
হযরত আলী ১০ হাজার,
আল মুইত সমিতি ৮ লক্ষ ৫০ হাজার
টিউবওয়েল দেওয়ার নামে ১১ লক্ষ,
সোনালী ব্যাংকের লোন ১৭ লক্ষ এবং
ডাচ বাংলা ব্যাংকের ৪ লক্ষ টাকার হিসাবের তাৎক্ষণিক সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি জানান, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ৯ আগস্ট সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছিল।
‎তবে ওই আদেশ উপজেলা শিক্ষা অফিসে কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পুনরায় বরখাস্তের আদেশ পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেন। তবে তিনি জানান, বরখাস্তের আদেশটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
‎দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের পরও কেন দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং প্রথম দফার বরখাস্তের আদেশ কেন বাস্তবায়িত হয়নি—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্বে অবহেলার কোনো ঘটনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
Development By: sahon srabon

চরফ্যাশনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিযোগ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০২:২৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

‎কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ৭২ নম্বর দক্ষিণ মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০০ দিন বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছয় দিন, মে মাসে চার দিন এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬১ দিন অনুপস্থিত ছিলেন আলমগীর হোসেন। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১১৫ দিন, জুন মাসে এক দিন এবং জুলাই মাসে টানা ১০ দিন তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তার অনুপস্থিতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হলেও দীর্ঘ সময়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
‎এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, আলমগীর হোসেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ ও ধার হিসেবে টাকা নিয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে লাভ দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া এবং কম দামে নলকূপ স্থাপনের কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
‎স্থানীয়দের দাবি, ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আলমগীর হোসেন দীর্ঘ সময় এলাকায় ও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। এর ফলে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
‎অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চরফ্যাশন উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট ২৫৮৭ নম্বর স্মারকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে ওই নোটিশের কোনো জবাব তিনি দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
‎এদিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সংবাদকর্মী ও কয়েকজন পাওনাদার বিদ্যালয়ে গেলে সেখানে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান।
পাওনাদাররা মধ্যে
সুখী আক্তার ৮০ হাজার,
আব্দুস সাত্তার ১ লক্ষ ৬৫ হাজার,
হযরত আলী ১০ হাজার,
আল মুইত সমিতি ৮ লক্ষ ৫০ হাজার
টিউবওয়েল দেওয়ার নামে ১১ লক্ষ,
সোনালী ব্যাংকের লোন ১৭ লক্ষ এবং
ডাচ বাংলা ব্যাংকের ৪ লক্ষ টাকার হিসাবের তাৎক্ষণিক সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি জানান, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ৯ আগস্ট সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছিল।
‎তবে ওই আদেশ উপজেলা শিক্ষা অফিসে কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পুনরায় বরখাস্তের আদেশ পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেন। তবে তিনি জানান, বরখাস্তের আদেশটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
‎দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের পরও কেন দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং প্রথম দফার বরখাস্তের আদেশ কেন বাস্তবায়িত হয়নি—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্বে অবহেলার কোনো ঘটনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।