
চরফ্যাশন প্রতিনিধি : মাইনউদ্দিন জমাদার
ভোলার চরফ্যাশনে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে নির্মাণাধীন একটি ঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহআলম বিশ্বাস চরফ্যাশন থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সম্পত্তি নিয়ে শাহআলম বিশ্বাসের সঙ্গে তার আপন খালাতো ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শাহআলমের দাবি, সালামের বাবা-মায়ের নামে প্রায় ১২ শতাংশ জমি বেশি রেকর্ড হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমঝোতা হলে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
শাহআলম অভিযোগ করেন, গত ১ মে রাত আনুমানিক ১টার দিকে সালাম মেস্তুরি, শাহিন খলিফা, নশু খলিফা, শারমিন, ইয়ানুর ও নাজুসহ আরও ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি নির্মাণাধীন ঘরে হামলা চালিয়ে দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করেন। ভাঙচুরের শব্দে ঘুম থেকে উঠে তারা ঘটনাস্থলে গেলে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। পরে হামলাকারীরা পেছনের শোবার ঘরে ঢুকে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং বিদেশ থেকে আনা এক জোড়া জাফসা, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা—নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহআলমের ছেলে আকীত বলেন, তার দুই ভাই প্রবাসে থাকেন এবং তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। নির্মাণকাজ চলায় তাকে পাশের বাড়িতে ঘুমাতে হয়। ঘটনার আগের দিন শাহিন তাদের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তারা ঘর নির্মাণ করলেও সেখানে থাকতে দেওয়া হবে না এবং ঘর ভেঙে দেওয়া হবে। এরপরই দলবল নিয়ে নির্মাণাধীন ঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। হামলার সময় ভাঙচুরের কিছু দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন বলেও জানান আকীত।
প্রতিবেশী শাহেদ আলী বিশ্বাস বলেন, শাহআলম ও শাহিনদের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করা হলেও শাহিন পক্ষ তা মেনে নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার রাতে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে রড, শিক, লাঠি ও দা-বটি দিয়ে নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুর করতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
আরেক প্রতিবেশী রাসেল বলেন, বিরোধের সমাধানে স্থানীয় ব্যক্তিরা বসে চরফ্যাশন থেকে সার্ভেয়ার এনে জমি মেপে উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এরপরও বিরোধের সমাধান না হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিন খলিফার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার এক ভাগিনা ফোন ধরে শাহিনকে জানাবেন বলে জানান। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ ভূইয়া বলেন, শাহআলম নামে একজনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
