মানবাধিকার কমিশন বিল: সংসদীয় কমিটির আলোচনায় অংশ নেয়নি বিরোধী দল

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেননি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে বিলটি পাসের প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

রোববার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সম্পত্তি হস্তান্তর বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিলেও মানবাধিকার কমিশন বিলের আলোচনা শুরু হলে বিরোধী দলের সদস্যরা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।

বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান

বিরোধী দলে থাকা তিন সদস্যের আপত্তি

আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাঁরা হলেন নাজিবুর রহমান, আল ফারুক আব্দুল লতিফ ও আখতার হোসেন

তিন সদস্য তাঁদের অবস্থান লিখিতভাবে সংসদীয় কমিটির কাছে জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার ভুক্তভোগী, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল করেছে।

তাঁদের দাবি, অধ্যাদেশ বাতিলের সময় আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমানে যে বিলটি সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা আগের তুলনায় দুর্বল ও সীমিত পরিসরের

‘প্যারিস প্রিন্সিপালসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’

বিরোধী দলের সদস্যরা আরও দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত বিলটি জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক জোটের স্বীকৃত মানদণ্ড, প্যারিস প্রিন্সিপালস এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাঁদের আপত্তির আরেকটি কারণ হলো, বিলটি নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত মতবিনিময় এবং স্বাধীনভাবে বিলটি পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

তিন সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে কার্যত একটি ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিলের প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না বিরোধী দল

লিখিত বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, এসব কারণে তাঁরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের কোনো আলোচনা বা পর্যালোচনায় অংশ নেবেন না। এমনকি বিলটি পাসের প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েও অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

ফলে বিলটি নিয়ে সরকারের অবস্থানের বিপরীতে সংসদীয় কমিটির পর্যায়েও বিরোধী দলের অবস্থান স্পষ্ট হলো। এখন তাঁদের আপত্তি ও সংশোধনী প্রস্তাব ছাড়া বিলটির পরবর্তী প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *