সামরাজ মৎস্য ঘাটে ব্যবসায়ী মাকসুদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ১২:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:মাইনউদ্দিন জমাদার
ভোলার চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্য ঘাটের ব্যবসায়ী মো. মাকসুদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন মাকসুদ।
সংবাদ সম্মেলনে মাকসুদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করার পর সামরাজ মৎস্য ঘাটে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে মবিল কিনে বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি।
মাকসুদ বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করেছি। বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করার পর ব্যবসা শুরু করি। বর্তমানে আমার ব্যবসা ভালোভাবেই চলছে। আমি কখনো কারও ক্ষতি করিনি এবং ভবিষ্যতেও কারও ক্ষতি করতে চাই না।”
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগকারী নোমান মাঝিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং নোমান কখনো তার কাছ থেকে কোনো পণ্য কেনেননি। অপর অভিযোগকারী ফারুক মাঝিকে তিনি চেনেন, তবে তিনিও তার কাছ থেকে কোনো পণ্য কেনেননি বলে দাবি করেন মাকসুদ।
তিনি বলেন, “নোমান মাঝিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না তার বাড়িও এখানে না আমি জানি তার বাড়ি দৌলত খান। সে কোনোদিন আমার কাছ থেকে কোনো পণ্য কেনেনি। তাহলে কেন আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়। ফারুক মাঝিকে আমি চিনি, কিন্তু সেও আমার কাছ থেকে কোনো পণ্য কেনেনি। আমি চাই, বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক।”
মাকসুদ আরও দাবি করেন, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। তার দোকানে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে তা যাচাই করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমার দোকান সবসময় সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকে। আমি কোনো অনিয়ম করে থাকলে তার প্রমাণ ফুটেজে থাকার কথা। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তারা আমার কাছ থেকে মবিল কেনার কোনো ফুটেজ বা তথ্য যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করেছেন বলে আমি মনে করি। এতে আমার সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. অলিউদ্দিন বলেন, “মাকসুদ একজন ভালো মানুষ। আমরাও তার সঙ্গে ব্যবসা করি। তার কাছ থেকে কোনো পণ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি।”
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, “মাকসুদ ভালো ছেলে। প্রতিহিংসার কারণে যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে তাকে হয়রানি বা ব্যবসায়িকভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে, তাহলে তা ঠিক হয়নি। একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে আগে তথ্য যাচাই করা উচিত। ভুল বা মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে কারও সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়।”
তবে মাকসুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ থাকলে সেগুলোও যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে মাকসুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বলেন, “আমি নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তদন্তে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সত্য যেটি, সেটিই সবার সামনে আসুক।”
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের আগে যথাযথভাবে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।












