সংবাদ শিরোনাম ::
লালমোহনে ছাত্রদল নেতাকে ১৬৯ পিস ইয়াবাসহ আ\ট\ক ! অত:পর বহিস্কার একনেক বৈঠক স্থগিত, আটকে গেল ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন ক্যান্সারে আক্রান্ত জেলে সাদ্দামের পাশে ‘তারুণ্যের পথচলা সংগঠন’, পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা বোরহানউদ্দিনে ইয়াছিন পাড়া ডিগ্রি কলেজে ল্যাব সহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ চরফ্যাশনে এ পি পি এডভোকেট হিরনের বিরুদ্ধে জেলা জজের গন বিজ্ঞপ্তি তজুমদ্দিনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ উপজেলার মেধা তালিকায় ২য় হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল আলম ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় আজ মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক শশীভূষণ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ তিন ডাকাত সদস্য গ্রেফতার !
সংবাদ শিরোনাম ::
লালমোহনে ছাত্রদল নেতাকে ১৬৯ পিস ইয়াবাসহ আ\ট\ক ! অত:পর বহিস্কার একনেক বৈঠক স্থগিত, আটকে গেল ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন ক্যান্সারে আক্রান্ত জেলে সাদ্দামের পাশে ‘তারুণ্যের পথচলা সংগঠন’, পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা বোরহানউদ্দিনে ইয়াছিন পাড়া ডিগ্রি কলেজে ল্যাব সহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ চরফ্যাশনে এ পি পি এডভোকেট হিরনের বিরুদ্ধে জেলা জজের গন বিজ্ঞপ্তি তজুমদ্দিনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ উপজেলার মেধা তালিকায় ২য় হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল আলম ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় আজ মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক শশীভূষণ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ তিন ডাকাত সদস্য গ্রেফতার !

প্রায় ২ কোটি টিকা, তবু বাংলাদেশে থামছে না হাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
প্রায় ২ কোটি টিকা, তবু বাংলাদেশে থামছে না হাম

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা পুরোপুরি থামেনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম বা সন্দেহভাজন হামে ১ হাজার ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১০০ জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি ৯০৯ জনের মৃত্যু সন্দেহভাজন হাম হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

এদিকে এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

তবু সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসার পেছনে টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং বিভিন্ন এলাকায় টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে হামের ঝুঁকি কয়েক বছর ধরেই বাড়ছিল। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন জরিপ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রথম ডোজের হামের টিকার আওতায় ছিল ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশে। দ্বিতীয় ডোজের হারও একই সময়ে ৮৯ শতাংশ থেকে ৮০ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে যায়।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। শিশুদের টিকা না পাওয়ার পেছনে ভুল তথ্য ও টিকা নিয়ে অনীহাকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম সংক্রমণ ঠেকাতে একটি জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকার আওতায় থাকা প্রয়োজন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এই মাত্রা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা জমতে থাকে।

এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকা সরবরাহে ঘাটতির কারণে। বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর টিকা সংগ্রহে বিলম্ব হয়েছিল। এর ফলে ওই দুই বছরে টিকা সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মার্চে তা ব্যাপক আকার ধারণ করলে ৪ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের কথা জানায় বাংলাদেশ। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই হাম শনাক্ত হয়েছিল।

এরপর ৫ এপ্রিল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়। ২০ এপ্রিল দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু করা হয়। এতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টার্গেট করা হয়েছিল। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। জুনে একই বয়সী প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ হামের টিকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬০ লাখ বেশি শিশু ওই বয়সসীমার মধ্যে ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে টিকার জন্য নির্ধারিত শিশুর সংখ্যা প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল কি না, সেই প্রশ্ন সামনে আসে।

জাতীয় পর্যায়ের গড় টিকাদানের হারও স্থানীয় চিত্র সবসময় তুলে ধরে না। প্রত্যন্ত এলাকা, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাচলকারী পরিবারের শিশুদের মধ্যে টিকার ঘাটতি থাকলে কোনো এলাকায় হাম ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও এমন চিত্র দেখছেন। হাসপাতালটির জুনিয়র কনসালট্যান্ট শ্রেবাশ পাল জানান, বর্তমানে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ হামের রোগী টিকা নেয়নি। কেউ কেউ টিকাদান কর্মসূচির সময় অসুস্থ থাকায় টিকা নিতে পারেনি।

হাসপাতালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সেখানে সন্দেহভাজন হামের ৩ হাজার ১৬৭টি এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত ৫৩৭টি রোগী শনাক্ত হয়েছে। নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন হামে মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জনের। মৃতদের বড় অংশই ছিল খুব ছোট শিশু। ৫৭ জনের মধ্যে ৪৯ জনের বয়স ১৫ মাসের কম এবং ৩১ জনের বয়স নয় মাসের কম। বাংলাদেশে সাধারণত নয় মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। মৃতদের মধ্যে ৪৭ জন কোনো হামের টিকা নেয়নি। নিউমোনিয়া ছিল মৃত্যুর প্রধান জটিলতা।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, আরও একটি টিকাদান কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি শুরু হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নতুন কর্মসূচির সাফল্য শুধু মোট কত শিশুকে টিকা দেওয়া হলো, তা দিয়ে বিচার করলে হবে না। কোন এলাকায় কত শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং কারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে—তা চিহ্নিত করে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা পৌঁছানোই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
Development By: sahon srabon

প্রায় ২ কোটি টিকা, তবু বাংলাদেশে থামছে না হাম

আপডেট সময় : ১১:৩৮:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রায় ২ কোটি টিকা, তবু বাংলাদেশে থামছে না হাম

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা পুরোপুরি থামেনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম বা সন্দেহভাজন হামে ১ হাজার ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১০০ জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি ৯০৯ জনের মৃত্যু সন্দেহভাজন হাম হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

এদিকে এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

তবু সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসার পেছনে টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং বিভিন্ন এলাকায় টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে হামের ঝুঁকি কয়েক বছর ধরেই বাড়ছিল। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন জরিপ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রথম ডোজের হামের টিকার আওতায় ছিল ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশে। দ্বিতীয় ডোজের হারও একই সময়ে ৮৯ শতাংশ থেকে ৮০ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে যায়।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। শিশুদের টিকা না পাওয়ার পেছনে ভুল তথ্য ও টিকা নিয়ে অনীহাকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম সংক্রমণ ঠেকাতে একটি জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকার আওতায় থাকা প্রয়োজন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এই মাত্রা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা জমতে থাকে।

এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকা সরবরাহে ঘাটতির কারণে। বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর টিকা সংগ্রহে বিলম্ব হয়েছিল। এর ফলে ওই দুই বছরে টিকা সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মার্চে তা ব্যাপক আকার ধারণ করলে ৪ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের কথা জানায় বাংলাদেশ। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই হাম শনাক্ত হয়েছিল।

এরপর ৫ এপ্রিল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়। ২০ এপ্রিল দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু করা হয়। এতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টার্গেট করা হয়েছিল। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। জুনে একই বয়সী প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ হামের টিকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬০ লাখ বেশি শিশু ওই বয়সসীমার মধ্যে ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে টিকার জন্য নির্ধারিত শিশুর সংখ্যা প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল কি না, সেই প্রশ্ন সামনে আসে।

জাতীয় পর্যায়ের গড় টিকাদানের হারও স্থানীয় চিত্র সবসময় তুলে ধরে না। প্রত্যন্ত এলাকা, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাচলকারী পরিবারের শিশুদের মধ্যে টিকার ঘাটতি থাকলে কোনো এলাকায় হাম ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও এমন চিত্র দেখছেন। হাসপাতালটির জুনিয়র কনসালট্যান্ট শ্রেবাশ পাল জানান, বর্তমানে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ হামের রোগী টিকা নেয়নি। কেউ কেউ টিকাদান কর্মসূচির সময় অসুস্থ থাকায় টিকা নিতে পারেনি।

হাসপাতালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সেখানে সন্দেহভাজন হামের ৩ হাজার ১৬৭টি এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত ৫৩৭টি রোগী শনাক্ত হয়েছে। নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন হামে মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জনের। মৃতদের বড় অংশই ছিল খুব ছোট শিশু। ৫৭ জনের মধ্যে ৪৯ জনের বয়স ১৫ মাসের কম এবং ৩১ জনের বয়স নয় মাসের কম। বাংলাদেশে সাধারণত নয় মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। মৃতদের মধ্যে ৪৭ জন কোনো হামের টিকা নেয়নি। নিউমোনিয়া ছিল মৃত্যুর প্রধান জটিলতা।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, আরও একটি টিকাদান কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি শুরু হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নতুন কর্মসূচির সাফল্য শুধু মোট কত শিশুকে টিকা দেওয়া হলো, তা দিয়ে বিচার করলে হবে না। কোন এলাকায় কত শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং কারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে—তা চিহ্নিত করে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা পৌঁছানোই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।